দুই গুরু-র মনোস্তাত্তিক বিশ্লেষণ

 

২৫-শে বৈশাখ, কবিগুরুর জন্মদিন — তার সমসাময়িক কালের আরেক কালপুরুষ মহাত্মা গান্ধী, রবি ঠাকুর ৬-৭ বছরের বড় হলেও প্রথম দিকে তারা বেশ বন্ধুবর ছিলেন, কিন্তু মন মানসিকতায় ভিন্নতা থাকায় ও ক্রমাগত মতদ্বৈততা প্রকাশিত হওয়ায় শেষ অব্দি ইনাদের সম্পর্ক মোটেও আর ভালো ছিলো না, কারণ রবি ঠাকুর লিখতেন ভাবাবেগ দিয়ে, মহাত্মা গান্ধী ছিলেন বাস্তববাদী ধর্মবেত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মহান নেতা, তাই ১৯৩৪-এ ভারত বর্ষে ভূমিকম্প ও প্লেগে যখন অনেক মানুষ মারা যেতে লাগলো গান্ধী সেটাকে মহান করুণাময়ের অভিশাপের ফল বলতে লাগলেন কারন তিনি নিম্নবর্ণের শ্রেণীপ্রথার বিলোপ চাচ্ছিলেন, উচ্চবর্ণেরা গান্ধীজীকে পাত্তাই দিলেন না,তাই গান্ধী ভূমিকম্পকে সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ বলে আখ্যায়িত করলেন, রবিন্দ্রনাথ বেঁকে বসলেন এবং ইহাকে নিছক ভূতাত্তিক ভৌগলিক কারন বলে গান্ধীকে তাচ্ছিল্য করে লিখতে শুরু করলেন এবং তাকে এ অবৈজ্ঞানীক চিন্তাধারা থেকে বেরুতে বললেন,অথচ গান্ধীজী ছিলেন বিলেত ফেরত ব্যরিস্টার, তাই তিনি তার বক্তব্যে অটল থাকলেন এবং উচ্চমার্গীয় সমাজের বর্ণ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চারকন্ঠী হয়ে হরিজন নামক পত্রিকা বের করলেন।
তারপর থেকে ওদের সম্পর্ক আর ভালো হয়নি, কারন রবিন্দ্র বাবু-র মাঝেও ব্রাহ্মণ্য অহমিকা ছিলো, যা গান্ধীজী বুঝতে পারতেন, পরবর্তীতে ঢাকা ভার্সিটি প্রতিষ্ঠার বিরোধিতায় তা স্পষ্ট প্রকাশিত হয়ে ওঠে।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, মহাত্মা গান্ধী পাঁচ পাঁচ বার নোবেলের জন্য মনোনয়ন পেলেও তাকে নোবেল দেয়া হয়নি কারণ তিনি ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে গোরাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রধান সমালোচক ছিলেন। পরে অবশ্য নোবেল কমিটি তাকে নোবেল না দেয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। অদ্যাবধি নোবেল বরাবর-ই ব্রিটিশ-আমেরিকান তালুবন্দী হয়ে রয়েছে, তা-ই নোবেল কক্ষনো-ই ব্যক্তিকে মূল্যায়িত করতে পারেনা, কেবল ইতিহাস-ই তার যথাযথ মূল্যায়ন করে থাকে।

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=2503235746354756&set=a.2503230643021933&type=3

Leave a Comment